হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আল্লামা হাসানজাদেহ আমুলি (রহ.) মরহুম আল্লামা তাবাতাবায়ী (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, আয়াতুল্লাহ কাজী (রহ.) বহু ওস্তাদ ও আধ্যাত্মিক সাধকের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন। তিনি তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেন।
এরপর তিনি বলেন, তাঁর পিতা, মরহুম হাজি মির্জা হুসাইন কাজী, মরহুম মির্জায়ে শিরাজীর অন্যতম শিষ্য ছিলেন। তিনি যখন মির্জার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাবরিজে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন, তখন মির্জায়ে শিরাজী তাঁকে বললেন,“এখন তুমি যখন চলে যাচ্ছ, তখন দিন ও রাতে এক ঘণ্টা করে নিজের প্রতি মনোযোগ দিও।”
কিছুদিন পর মরহুম মির্জায়ে শিরাজী অন্যদের কাছে হাজি মির্জা হুসাইন কাজীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তাঁকে উত্তরে বলা হলো—“হুজুর! সেই এক ঘণ্টা এখন চব্বিশ ঘণ্টায় পরিণত হয়েছে।”
অর্থাৎ, আত্মশুদ্ধি, আত্মপর্যবেক্ষণ ও আল্লাহর স্মরণে নিবিষ্ট থাকার যে সাধনা শুরু হয়েছিল প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা দিয়ে, তা ধীরে ধীরে তাঁর সমগ্র জীবনকে পরিব্যাপ্ত করে ফেলে। মুরাকাবা তাঁর কাছে আর নির্দিষ্ট কোনো সময়ের আমল ছিল না; বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠেছিল আল্লাহর প্রতি সচেতনতা ও অন্তরের উপস্থিতির সময়।
তিনি সর্বদা মুরাকাবা, হুযূর ও নির্জনতার অবস্থায় থাকতেন। তবে তাঁর নির্জনতা ছিল এক অনন্য ধরনের।
তিনি মানুষের মাঝে থেকেও অন্তরে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট থাকতেন। কবির ভাষায়—“কখনো কি শুনেছ এমন কাউকে—যিনি উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত?
আমি মানুষের মাঝে আছি, অথচ আমার হৃদয় রয়েছে অন্যত্র।”
এভাবেই আয়াতুল্লাহ কাজী (রহ.)-এর বাহ্যিক জীবন ছিল মানুষের সঙ্গে, কিন্তু তাঁর অন্তর ছিল আল্লাহর স্মরণ ও সান্নিধ্যের অনুভূতিতে নিবিষ্ট।
সূত্র: ইয়াদনামায়ে আল্লামা তাবাতাবায়ী, শাফাক প্রকাশনী, পৃ. ৯৩; দুই মাসিক ‘খালক’, সংখ্যা ২৭, বাহমান ও ইসফান্দ ১৩৯০।
আপনার কমেন্ট